কক্সবাজারে শুটিং করতে টাকার প্রসঙ্গে যা বললেন এই অভিনেতা 













‘কক্সবাজারে শুটিং করতে গেলে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয় জানতাম। কিন্তু এবার শুনলাম প্রতিদিনের শুটিংয়ের জন্য নাকি দশ হাজার টাকা করে দিতে হবে এবং এই অনুমতি ও টাকা জমা দিতে আট দশ টেবিল ঘুরতে হয়। এটা কেমন কথা! এতো টাকা কেনো দিতে হবে?’ এমন প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেতা রওনক হাসান।

নিজের ফেসবুক ওয়ালে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ স্ট্যাটাস লিখেন তিনি। রওনকের এই স্ট্যাটাস অনেক তারকা শিল্পী, নির্মাতা-কলাকুশলীরা ফেসবুকে শেয়ার করছেন। রওনক লিখেছেন, ‘স্বাধীন দেশে কাউকে বিরক্ত না করে শুটিং করতে গেলে কেন টাকা দিতে হবে? প্রাইভেট প্রপার্টিতে শুটিং করতে গেলে না হয় তার মালিকের শর্ত অনুযায়ী কাজ করবো। কিন্তু সমুদ্র সৈকতে শুটিং করতে এতো টাকা দিতে হবে কেন?’

অভিনেতা রওনক হাসান বলেন, ‘গত বিশ বছরে জগতের সকল কিছুর মূল্য বেড়েছে শুধু বাড়েনি নাটকের মূল্য। বরং কমেছে। চ্যানেল যতো বাড়ছে ততো নাটকের মূল্য কমছে। একটি নাটকের বাজেট থাকে কতো টাকা। কক্সবাজারে শুটিং করতে যদি একটি নাটকে এক্সট্রা আরও ২০/৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে সেটা কোথায় গিয়ে ঠেকে?’

নাটক-সিনেমার মাধ্যমেই কক্সবাজার জনপ্রিয় হয়েছে উল্লেখ করে রওনক বলেন, ‘সমগ্র দেশের মানুষের কাছে কক্সবাজার পরিচিতি পেয়েছে নাটক সিনেমার মাধ্যমে। কক্সবাজারকে জনপ্রিয় করার জন্য প্রশাসনের অবদান কতোটুকু? নোংরা সমুদ্র সৈকত, পর্যটকদের নিরাপত্তা কতটুকু দিতে পেরেছে স্থানীয় প্রশাসন? দিনের বেলা নির্জন সৈকতে, সন্ধ্যায় সৈকতে যেতে মানুষ এখনো ভয় পায়। এমন একটা শহরে তারা নাটকের মানুষদের কতোটুকু সহযোগিতা করতে পারছে? উল্টো মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়া ছাড়া! এ কেমন অন্যায়?’
“সেখানকার বড় কর্তা নাকি বলেন, ‘আরে আপনারা নাচ গান করবেন সেইখানে দশ হাজার টাকা এইটা কোনো ব্যাপার?’ তারা খোঁজ রাখেন না একটা নাটক করতে গিয়ে প্রযোজক, পরিচালকের প্রাণ যায় যায় অবস্থা।”– বললেন রওনক।

তিনি আরও বলেন, ‘শুটিংয়ের জন্য অনুমতি নেয়ার প্রচলন থাক। প্রডিওসার অ্যাসোসিয়েশন, ডিরেক্টরস গিল্ডের চিঠি নিয়ে কাজ করবার নিয়ম থাক। যাতে আজেবাজে মানুষজন অপব্যবহার না করতে পারে। সংগঠনের চিঠির মাধ্যমে প্রশাসন অনুমতি দিক, কিন্তু টাকা দিয়ে। তাও দশ হাজার টাকা প্রতিদিন। অসম্ভব।’
বিষয়টি নিয়ে সবাইকে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান রওনক। তিনি বলেন, ‘নাট্যকার, প্রযোজক, অভিনয়শিল্পী, পরিচালক’সহ ইন্ডাস্ট্রির সবাই আওয়াজ তুলুন। সবাই কী চাচ্ছে নাটক সিনেমা সব বন্ধ হয়ে যাক? আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে সুরক্ষিত রাখবার দায়িত্ব আমাদেরই।’