‘বিনা বিচারে হাজারো মানুষকে আটকে রেখেছে সৌদি আরব’













সৌদি আরবে বিনা বিচারে হাজারো মানুষকে আটক করে রাখা হয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা করে ৬ মে রবিবার এমন চিত্র তুলে ধরেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। একইসঙ্গে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশে দেশটিতে ‘নির্বিচারে আটকের’ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক এই মানবাধিকার সংস্থা। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স ২৪।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য পর্যালোচনা করে এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, দুই হাজার ৩০৫ জনকে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে আটকে রাখা হয়েছে। কাউকে আবার ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আটকে রাখা হয়েছে। অথচ তাদের আদালতে তোলা হচ্ছে না।

গত কয়েক মাসে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রের দেশটিতে বেশকিছু সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এসব পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী, পশ্চিমা কূটনীতিকদের কাছে তিনি এমবিএস নামে পরিচিত। সৌদি আরবে তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো কেউ নেই। দুই পূর্বসূরিকে সরিয়ে দিয়ে ২০১৭ সালের জুনে তাকে যুবরাজ বা পরবর্তী রাজা ঘোষণা করেন তার বাবা ও দেশটির বর্তমান রাজা সালমান বিন আবদুলআজিজ।

এইচআরডব্লিউ বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরবে নির্বিচারে গ্রেফতারের ঘটনা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি।

২০১৭ সালের নভেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযানের নামে সৌদি আরবে বেশ কয়েকজন প্রিন্সসহ পাঁচ শতাধিক অভিজাত ব্যক্তিকে আটক করা হয়। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশে তাদের আটক করা হয়। তবে ওই নির্বিচারে আটকের ঘটনাকে দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হন যুবরাজ এমবিএস। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে ওই অভিযানকে দেখা হয়, রীতি ভেঙে রাজপরিবারে যুবরাজের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রয়াস হিসেবে।

প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের সম্পাদকীয় ভাষ্যে অভিযানটিকে সৌদি যুবরাজের গোপন অভ্যুত্থান আখ্যা দেওয়া হয়।

রাজপরিবারের সদস্যদের ওপর প্রথম দফায় আটক অভিযান চালানো হয় ৪ নভেম্বর রাতে। ওই রাতে ১১ জনকে আটকের পরের দিনগুলোতে ধরপাকড়ের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা দীর্ঘ হয়েছে। কয়েকদিনের মাথায় আটক হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যায়। এদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী এবং রাজপরিবারের নারী সদস্যও রয়েছেন। তবে ওই ধরপাকড়ের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগকেই পরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হয়। সূত্র: ফ্রান্স ২৪, রয়টার্স।